Home / ইসলাম ও জীবন / রমজানকে যেভাবে স্বাগত জানায় আরব বিশ্ব

রমজানকে যেভাবে স্বাগত জানায় আরব বিশ্ব

সিয়াম সাধনার মাস পবিত্র রমজান শুরু হয়েছে। মুসলমানদের কাছে সবচেয়ে মর্যাদার মাস এটি। সবচেয়ে বেশি বরকতময় এই মাসের জন্য সব বয়সী মুসলিম নরনারী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। প্রাণখুলে স্বাগত জানান, এই মাসকে। গুনাহ মাফের মাস এটি। আত্মসংযমের মাস এই রমজান। বেহেশত লাভের মাস এই রমজান। এজন্য সারা বিশ্বের মুসলমাওনেরা বহুল প্রত্যাশিত ও আনন্দঘন মাসকে প্রাণখুলে স্বাগত জানায়।

পবিত্র রমজান শুরু হয় চাঁদ দেখা যাওয়া সাপেক্ষে। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের কমপক্ষে ১০০ কোটি মুসলমান রোজা রাখা শুরু করেছেন। সূর্যোদয়ের আগে থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সমস্ত রকম পানাহার, স্ত্রী সম্ভোগ, পাপ কাজ থেকে বিরত থাকেন তারা। এর মধ্য দিয়ে শুধু শারীরিক বিশুদ্ধতাই অর্জন হয়- এমন নয়। মন ও আত্মাও পরিশুদ্ধ হয়। এ সময় বিশ্বজুড়ে প্রতিটি মুসলিমের হৃদয় থাকে একসূত্রে গাঁথা। তাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ থাকে না। তারা একই ধ্যানে মগ্ন থাকেন। 

মিসরের গিজা এলাকার একটি গ্রামে শিশুদের রমজানকে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি

প্রতি বছর মুসলমানেরা তাদের নিজেদের, পরিবার ও বাড়িঘরকে এই মাসের পবিত্রতার জন্য প্রস্তুত করেন। কারণ এই মাসেই মহানবী হজরত মোহাম্মদ সা:-এর ওপর নাজিল হয়েছিল পবিত্র আল কুরআন। রমজানে প্রতিটি বাড়ি থাকে শান্ত। মসজিদে মসজিদে থাকে নামাজের আয়োজন। আগে ভাগে তৈরি করা ইফতার নিয়ে বাসায় বাসায় চলে প্রস্তুতি। পরিবারের সবাই একত্রিত হয়ে ইফতার করেন। সবার সামনে একই খাবার। এর মধ্য দিয়ে পারিবারিক বন্ধনও হয় শক্তিশালী। এর বাইরে মসজিদে বা বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যায় ইফতারি। সেখানে ধনী-গরিবের ব্যবধান থাকে না। 

সৌদি আরবে রমজান আসে প্রতিটি বাড়িতে পবিত্রতার এক বার্তা আর রীতি নিয়ে। সূর্য যখন অস্ত যেতে শুরু হয়, সাথে সাথে বাড়ির ভেতর থেকে এলাচের ঘ্রাণযুক্ত খাবার আর আরবের বিখ্যাত কফির ঘ্রাণ বেরিয়ে আসতে শুরু করে। শুকনো ময়দা দিয়ে দলা পাকানো হয় সমুসা তৈরির জন্য। গোলাপের ঘ্রাণযুক্ত চা-ও আছে তালিকায়। বিভিন্ন বাড়ি থেকে আসে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের শব্দ। আবার পরিবারের সদস্যরা প্রবীণদের জন্য পাঠিয়ে থাকেন মিষ্টি খাবারসহ নানা রকম খাবার। 

কিছু কিছু পরিবার আয়োজন করে কমর আল দিন বা খোবানি নামের একটি ফলের জুস। বারলি অথবা পাউরুটির গুঁড়া, চিনি ও রেইজিন পানিতে কয়েক দিন মিশিয়ে রেখে তা দিয়ে তৈরি হিজাজ পানীয় তৈরি করা হয়। এর নাম সুবিয়া। পরিবেশন করা হয় তরমুজের জুস। ইফতারিতে হালকা খাবার খেয়ে থাকেন সৌদি আরবের মুসলমানেরা। ইফতারের পরে তারাবিহ নামাজ আদায় করার আগে তারা কিছু মিষ্টি ও আরবের বিখ্যাত কফি পান করেন। পান করেন পবিত্র জমজমের পানি। টিনের তৈরি টুটুওয়া নামের ছোট্ট ছোট্ট কাপে তা পান করা হয়।

মিসরীয়দের ঐতিহ্যবাহী তানৌরা নাচ

মিসরে রোজা শুরুর সাথে সাথে শিশুরা আনন্দ করতে থাকে। তারা ছুটে যায় প্রতিবেশীদের দরজায়। ছোট ছোট ফানুস উড়িয়ে মজা করে। রমজানকে স্বাগত জানিয়ে গাইতে থাকে লোকগান ‘ওয়াহাইয়ি ইয়া ওয়াহাইয়ি’। রোজার আগমনে মিসরীয়রা তাদের বাড়িঘর, রাস্তাঘাট সাজায় ফানুস দিয়ে। তবে ইফতারে তারা ভারী খাবার খান। সাহরিতে খান হালকা খাবার। পরিবারের সদস্যরা ও বন্ধুবান্ধবরা মসজিদে একত্রিত হয়ে নামাজ আদায় করেন। ইফতারের পর নামাজ আদায় শেষে তারা বাড়িতে বা কোনো ক্যাফেতে জমায়েত হন। সাহরির কিছু সময় আগে মেসাহারাতি হিসেবে পরিচিত লোকজন সবাইকে ডেকে তোলেন ড্রাম বাজিয়ে।

সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ চললেও রাতে অনেক মার্কেট মানুষে পরিপূর্ণ থাকে। তারা কেনাকাটা করেন। চা পান করেন। জনগণের উদ্দেশে বাজানো হয় প্রচলিত গান। পরিবেশন করা হয় লোকনৃত্য। আরেকটি রীতি হলো সেখানে গল্প বলা হয়। এটা হাকাওয়াতি নামে পরিচিত। পবিত্র কুরআন থেকে এবং বিভিন্ন লোককাহিনী থেকে সাহসী, যোদ্ধাদের সম্পর্কে গল্প বলা হয়।

সৌদি আরবে রোজার চাঁদ দেখার আয়োজন

লেবাননে শতকরা ৪০ ভাগ মানুষ খ্রিষ্টান। তবু সারা লেবাননে পবিত্র রমজান পালন করা হয় যথাযোগ্য মর্যাদায়। এ সময়ে বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা, নাগরিক সংগঠন ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ইফতারের আয়োজন করে। 

ইরাকে রাতের বেলা কারফিউ থাকলেও রমজানের রাতে যেন শহরগুলো জেগে ওঠে। জনসমাগমের স্থানগুলো মানুষে মানুষে ভরে ওঠে। সব বয়সের মানুষ যোগ দেন সেখানে। তারা মিষ্টি ও চা দিয়ে ইফতার করেন। কেনাকাটা করেন। শহর সাজানো হয় বিভিন্ন রঙের আলোতে। 

About admin

Check Also

রাসুল সা. যা দিয়ে ইফতার করতেন

ইফতার সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। এখানে তা তুলে ধরা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *