Home / অর্থনীতি / ‘অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকখাতে চলছে ধ্বংসের চক্রান্ত’

‘অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকখাতে চলছে ধ্বংসের চক্রান্ত’

নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের শীর্ষ খেলাপিদের অর্থ আত্মসাতের পথ তৈরি করতেই আবারো সহজ শর্তে ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয়া হচ্ছে এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অর্থনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ খাত ধ্বংসের চক্রান্ত চলছে বলেও মন্তব্য তাদের। এ অবস্থায় ব্যাংক খাতের নীতি সংস্কারে আরো স্বচ্ছতা আনার তাগিদ দেয়া হয়েছে।

গতবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাবে ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিলো ৯৪ হাজার কোটি টাকা। আদায় অযোগ্য হওয়ায় অবলোপন করা ৩৭ হাজার কোটি টাকাসহ পুনঃতফসিল করা ঋণ মিলে ব্যাংকখাতের প্রায় ২ লাখ কোটি টাকা ঝুঁকিতে । খেলাপি ঋণ কমাতে গত ২৫ মার্চ ২ শতাংশ ডাইন পেমেন্টে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দেয়ার ঘোষণা দেন অর্থমন্ত্রী।

তারপর নানা সমালোচনার জেরে সে সিদ্ধান্ত থেকে কিছুটা সরে ৯ শতাংশ সুদে সে সুযোগ দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ মে) প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেখানে ঋণ খেলাপিরা সুদমুক্ত সময় পাবেন সর্বোচ্চ একবছর। সার্বিকভাবে এধরনের পদক্ষেপে ব্যাংকখাতের ভবিষ্যৎ কোনদিকে যাবে সে প্রশ্ন ছিল বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের কাছে।

তিনি বলেন, ব্যাংক নিয়ে এদেশে কোনো ভবিষ্যৎ নেই। সভ্য দেশ হলে ব্যাংকগুলো ব্যাংকক্রাফট হয়ে যেত এতদিনে। ব্যাংকে ধ্বংস করার সব চক্রান্ত করা শেষ।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ আছে, অনিয়ন্ত্রিত বা অনিচ্ছাকৃত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ পাবেন, কিন্তু ইচ্ছা ও অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপীদের বাছাই করার কাজটি সহজ হবে না বলে জানান অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় যে ঋণ প্রদান, ঋণ মওকুফ করা প্রক্রিয়াগুলোতে ট্রান্সপারেন্সি আনতে হবে। তাহলে মানুষ বুঝতে পারবে কোনো ব্যবসাকে কেন সুবিধা দেওয়া হলো।

নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করে বার্ষিক পর্যবেক্ষণে চিহ্নিত সেসব ভালো গ্রাহকদের পরিশোধিত সুদের ১০ শতাংশ পর্যন্ত প্রণোদনা হিসেবে ছাড় দেয়ার নির্দেশ দিয়ে আরেকটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ।

About admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *